ফরিদগঞ্জে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে জুনায়েত হোসেন (১২) নামক এক শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির শাকিল হোসেল (২২), মোঃ ইয়াসিন হোসেন (১৮), মোসাঃ পান্না আক্তার (২৩), মোঃ ফিরোজ হোসেন (২৮), মোসাঃ ফিরোজা বেগম (৫০) ও মোঃ লিমন হোসেন (২৩) এর বিরুদ্ধে।
গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব বদরপুর আতর উদ্দিন ব্যাপারি বাড়িতে। ঐদিন রাতে এ ঘটনায় বিচার চেয়ে শিশু জুনায়েতের মা মোসাঃ সুমি বেগম (৩০) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বিচার চেয়ে এলাকার কর্তা শ্রেণীর ব্যাক্তিদের কাছে গেলে তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন বাদী মোসাঃ সুমি বেগম। এছাড়াও আইনি সহায়তা পেতে থানায়ও করেছেন লিখিত অভিযোগ। কিন্তু ঘটনার ৭ দিন পেরোলেও কোন সুফল মিলছেনা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে পরিবারের সদস্যরা। বরং অভিযুক্তদের হুমকির মুখে ভয়ে দিনাতিপাত করছে পরিবারটি।
শিশু জুনায়েতের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, শাকিল মানুষ নয়। তাকে পশু বললেও ভুল বলা হবে। সে পশুর চেয়েও অধম। সে তুচ্ছ বিষয়ে আমার সন্তানকে ও আমাদেরকে অমানবিক নির্যাতন করেছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দিন বিকালে আমাদের ঘরে কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে দেখার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখতে পাই শাকিল আমাদের ঘরে ফুটবল মেরেছে। পরে আমার ছেলে বলটি নিক্ষেপ করে তাকে দিতে গেলে বল শাকিলের ঘরে গিয়ে পড়ে। বলটি শাকিলের ঘরে কেন পড়লো বলতেই সে আমার শিশু ছেলে জুনায়েতকে গালাগাল ও মারধর এলোপাথারী কিল, ঘুষি, লাথি মেরে তাকে শারীরিকভাবে মারাত্বক রক্তাক্ত জখম করে।
জুনায়েতের মা আরো বলেন, তাদের ঘরে কোন পুরুষ থাকেনা, যার ফলে শিশু জুনায়েতকে শাকিলের হায় ছুটিয়ে আনতে ঘরের মহিলারা এগিয়ে গিয়ে মারার কারন জিজ্ঞেস করতেই শাকিল ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসে আমাদের উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে।
নির্যাতনকালে জুনায়েত পরিবারের মহিলা সদস্যদের পরিধানের কাপড় টেনেহেচড়ে ছিড়ে তাদের শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ তুলে ওই পরিবারের মোসাঃ তাছলিমা আক্তার (২৬), মোসাঃ ইতি আক্তার (২০), মোসাঃ রানি বেগম (৪৫)। ঘটনার সময় তাদের গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন, ব্যবহৃত একটি এনড্রয়েট মোবাইল জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এসময় ডাকচিৎকার দিলে ঘরের অন্যান্যরা ও বিড়ির লোকজন এগিয়ে এসে জখমি অবস্থায় জুনায়েত ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
পরে আমরা সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
এছাড়াও তিনি বলেন, থানার অভিযোগটি তুলে নেওয়ার জন্য শাকিল আমাদেরকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ তলে না নিলে আমাদেরকে প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে। এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আমাদের সর্বনাশ করবে বলে শাকিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন সুমি।
এদিকে অভিযুক্ত শাকিলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে শাকিল পূর্ণ বিষয়টিকে মিথ্যে বলে তার মত প্রকাশ করে। একই সাথে শাকিলের বড় ভাই বিবাদী ফিরোজের সাথে কথা হলে তিনিও বিষয়টি মিথ্যে বলে দাবী করেন।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ওয়ালি উল্লাহ্ অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যে আখ্যা দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্তব্য করেন।